মহাপুরুষ এব্রাহিমের জীবনচরিত
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন
১০টি বা তার বেশি বই অর্ডারে সারা বাংলাদেশে ফ্রি ডেলিভারি · ক্যাশ অন ডেলিভারি

হাজার সাহাবীর সামনে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বিকালে এই জগতের স্রষ্টা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহতায়ালা বিশ্ব মানবের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। প্রথম মানব ও নবী আদম (আ.) থেকে ঈসা (আ.)-এর পর পৃথিবীর মানুষ যখন পুনরায় মূর্তি পূজা, ফেত্না-ফ্যাসাদ, কুসংস্কার, অবিশ্বাস আর অন্ধকারের জাহেলিয়াত যুগে প্রবেশ করলো, ঠিক তখন লু হাওয়া আর ধু ধু বালুময় প্রান্তরের আরব ভূমিতে জন্ম নিলেন বিশ্ব-মানবের ত্রাতা হিসেবে শেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।
তাঁর মাধ্যমে মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করলেন মানবমুক্তির একমাত্র দ্বীন ইসলামকে। আর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দ্বীন ইসলামের বিজয় ও পূর্ণতাকে দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাঁর বিদায়ের কথা অনুভব করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়তপ্রাপ্তির পর মক্কায় অবস্থানকালে দুইবার হজ পালন করলেও মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর দশম হিজরীতে একবারই হজ করেন। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক হজ এবং শেষ হজ, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত। তখন লক্ষাধিক সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। যে কোনো আদর্শিক নেতার জীবনের সর্বশেষ কর্মী সম্মেলনে দেওয়া ভাষণ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। আর নবী জীবনের পরিপূর্ণতা সাধিত হয়েছে বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হজের ভাষণে ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় ১ লাখ ৫০ আরাফাতের ময়দানে এবং পরদিন ১০ জিলহজ ঈদের দিন তথা কোরবানির দিন যে বক্তব্য প্রদান করেন- এটিই তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে পরিচিত। বিদায় হজের ভাষণ নবী-জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি ছিল মানবতার ঐতিহাসিক দলিল, ইসলামের পরিপূর্ণতার স্বীকৃতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কোরআন-সুন্নাহর সংক্ষিপ্ত সারমর্ম। তাকওয়ার ভিত্তিতে মানবতাবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে এ ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
মহানবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, পৃথিবীর মানুষকে শেষ দিন পর্যন্ত কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে চলতে। তবেই মিলবে মানুষের ইহ ও পারলৌকিক মুক্তি। আজকের একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একে গভীর - ভাবে অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। আর তাই বিশ্বনবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হজের বাণী তথা শেষ উপদেশ মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করা গেল।